প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। ইইউ প্রতিনিধি দল আশ্বাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের ২০০ সদস্যের একটি বিশাল দল মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, ড. যুবায়ের আহমেদ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহের ইতিহাস বেশ পুরনো।
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও মধ্যস্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১৯৭০: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৭০-এর নির্বাচনেও বিশ্ববাসীর নজর ছিল এদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
২০২৪: দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়।
২০২৬: বর্তমান ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন মূলত ২০২৪ সালের সেই বিপ্লবের ফসলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বিশাল পর্যবেক্ষণ মিশন প্রমাণ করে যে, বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এই নতুন যাত্রাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রচারণার শেষ দিনে সারা দেশে উৎসব এবং উত্তেজনার মিশেল দেখা যাচ্ছে:
তারেক রহমান: প্রচারণা শেষ করে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন।
মির্জা ফখরুল: তিনি জানিয়েছেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দেশে দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হবে।
ইসি সচিব: এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারে ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
পারিবারিক রাজনীতি: অনেক আসনে নতুন মুখের দেখা মিলছে, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি কেবল একটি ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কারের একটি পরীক্ষা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল আসার বিষয়টি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা করবে। জামায়াতের মতো বড় দলের কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের এই সফর রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এদেশের মানুষের যে ভোটাধিকারের সংগ্রাম, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে একটি সার্থক রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া বিভাগ, ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন প্রেস রিলিজ এবং যুগান্তর অনলাইন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |